1. admin@amaderjamalganj.com : amaderjamalganj : amaderjamalganj com
শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২০, ১০:৩১ অপরাহ্ন
নোটিশ :
সাহিত্য বিকাশে মোরা প্রত্যয়দীপ্ত"আমাদের জামালগঞ্জ " হাওর সাহিত্যের আয়না - আপনিও লিখুনঃ আপনিও হয়ে যান আমাদের জামালগঞ্জ সাহিত্য পত্রিকার একজন নিয়মিত লেখক।যে কোনো ধরনের গল্প,কবিতা পাঠিয়ে দিন আমাদের কাছে আমরা আপনার লেখাটি আমাদের জামালগঞ্জ সাহিত্য পত্রিকায় আপনার নাম উল্লেখপূর্বক প্রকাশ করব। E-mail: amaderjamalganj@gmail.com
ব্রেকিং নিউজ :
নিজেকে পুরুষ ভাবতে লজ্জা হয় মুহাম্মদ আবতাহিনুর খাঁন উদয় মধ্যনগর প্রেসক্লাবের সহসভাপতি হলেন হাসুস প্রধান হাওরকবি জীবন কৃষ্ণ সরকার জামালগঞ্জ ছাত্র কল্যাণ পরিষদ কর্তৃক মানব বন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত ফাতেমা আক্তারের লেখা কবিতা ধর্ষণ শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ্ আহমদ শফী রহ. ও সদরে জমিয়ত আল্লামা আব্দুল মোমিন রাহিমাহুল্লাহ এর জীবন ও কর্ম শীর্ষক আলোচনা সভা শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ্ আহমদ শফী রহ. ও সদর্থক জমিয়ত আল্লামা আব্দুল মোমিন রাহিমাহুল্লাহ এর জীবন ও কর্ম শীর্ষক আলোচনা সভা মানিক মিয়া”র কবিতা ধর্ষণ ঐ অন্ধকার কবরে || মানিক মিয়া জেলে জীবন নিয়ে প্রভাষক (ইংরেজি) মানিক মিয়ার কবিতা লক্ষীপুরের ইতিহাস

দোয়ারাবাজার উপজেলার পান্ডারগাও ইউনিয়নের গণহত্যা ও পাকবাহিনীর বর্বরতা

  • আপডেট সময় : সোমবার, ১১ মে, ২০২০
  • ৪৬ বার পড়া হয়েছে

মোঃ মহিম মিয়া:: ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী ২৫শে মার্চ, বাঙালির উপর যে নরকীয় গণহত্যা শুরু করেছিল তা পৃথিবীর ইতিহাসে নজিরবিহীন। ২৫শে মার্চ, থেকে শুরু হওয়া গণহত্যা ১৬ই ডিসেম্বর পর্যন্ত চলমান ছিল। তেমনি সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে রাজাকার, আলবদরদের অত্যাচার -নির্যাতনে যে তথ্য পাওয়া যায় অত্যন্ত ভয়াবহ।
বাংলাদেশের অন্যান্য জায়গার মতো সুনামগঞ্জ’র দোয়ারাবাজার উপজেলার
পান্ডারগাঁও ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামের জনগণও ১৯৭১ সালে পাকবাহিনী’র বর্বরতার শিকার হয়েছিল।
১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ’র সময়ে শ্রীপুর ছিল ইউনিয়নের মধ্যে একটি ঐতিহ্যবাহী গুচ্ছ গ্রাম। তখনকার সময়ে বর্তমান অফছর নগর মহল্লা ও পঞ্চাশ ঘর শ্রীপুর গ্রামের অংশ হিসেবে পরিচিত ছিল।
মহান মুক্তিযুদ্ধে এই শ্রীপুর গ্রামবাসীর ত্যাগ-তিতিক্ষা ইতিহাসে অনন্য স্থান করে নিয়েছে। স্বাধীনতা যুদ্ধে অপরিসীম ত্যাগ স্বীকার করেছে শ্রীপুর গ্রামের জনগণ। সে সময়ে গ্রামের ৯৮% মানুষ ছিলেন স্বাধীনতার পক্ষে। বিশাল দেখার হাওরের পূর্ব কিনারে পান্ডার খালের তীরবর্তী দুর্গম এলাকায় অবস্থিত এ গ্রামটি। সুরমা নদী থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমের দুর্গম অঞ্চল, চতুর্দিকে অথই পানি, নৌকা ছাড়া চলাচল করা অসম্ভব। এই বিবেচনায় চেলা সাবসেক্টরের মুক্তিযুদ্ধারা স্বাধীনতার পক্ষের গ্রাম শ্রীপুরে অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করেন।
বিভিন্ন অপারেশন থেকে আসা-যাওয়ার পথে বিশ্রামের স্থান হিসেবে নির্ধারণ করেন পায়োনিয়র কোম্পানির মুক্তিযুদ্ধারা। শ্রীপুর গ্রামবাসীরা আগ্রহ সহকারে এগিয়ে আসেন যুদ্ধরত মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্যে।
পঞ্চাশঘর মহল্লার হাজী ইজ্জত আলী (বর্তমান হাজী বাড়ি নিজ জন্মস্থান) তার দুটি ঘর মুক্তিযুদ্ধাদের ব্যবহারের জন্য দিয়ে ছিলেন। এক কোম্পানি মুক্তিযুদ্ধার খাদ্যের সংস্থানে ও সরবরাহে নির্ভয়ে এগিয়ে আসেন শ্রীপুর গ্রামবাসী। এ কারণে গ্রামবাসীকে সীমাহীন মূল্য দিতে হয়েছে।
১৯৭১ সালের, ১৪’নভেম্বর সকালে হেলিকপ্টার দিয়ে শ্রীপুর গ্রাম রেকি করে পাকিস্তানী বাহিনী। তাদের ধারণা ছিল তখন গ্রামের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধারা অবস্থান করছে। হেলিকপ্টারটি চলে গেলে শুরু হয় পাকিস্তানী সেনাদের মর্টার শেলিং।
মুক্তিযুদ্ধের সময়ে পাকিস্থানী সেনারা কোম্পানি’র হেডকোয়ার্টার স্থাপন করেছিল কৈতক হাসপাতালে। সেখান থেকেই ওই দিন আর্টিলারি থেকে শেলিং করা হয়। তাৎক্ষণিক সময়ে নৌকাযোগে ছাতক থেকে পাকিস্তানী সেনাদের একটি দল শ্রীপুর গ্রামে পৌঁছে। শুরু হয় গ্রামবাসীর ওপর অমানবিক নর-পিশাচদের জুলুম, নির্যাতন-অত্যাচার।
পঞ্চাশঘর মহল্লায় পাকিস্তানী সেনাদের মর্টার সেল যে জায়গায় এসে পড়েছিল সেখানেই গর্ত হয়ে বড়সড় আকারে পুকুরে পরিণত হয়েছিল।
১৯৭১ এর বর্বরতায় শিকার হয়েছিলেন পঞ্চাশঘর মহল্লার ইজ্জত আলীর ছেলে এশাদ আলী(৭০), পাকিস্তানী সেনাদের গুলিতে আক্রান্ত হয়ে বেচে যাওয়া পলিরচর গ্রামের মছদ্দর আলী(৮৫), প্রসন্ন নমশূদ্র(৯০), আফসর নগর মহল্লা সেদিনের হৃদয় বিদারক ঘটনার প্রত্যক্ষ সাক্ষী।
পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী শ্রীপুর(পঞ্চাশঘরে) হত্যাযজ্ঞের পর পরেই হত্যাযজ্ঞ শুরু করে আফসর নগর ও পলিরচর গ্রামে।
পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী আফছর নগর হিন্দু মহল্লায় গণহত্যা চালায় এবং একই বাড়িতে চারজন নিরীহ হিন্দু ব্যক্তিকে কোন কারণ ছাড়াই নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করে পাক বাহিনী।পঞ্চাশঘর মহল্লায় অনুরূপভাবে ছয় জন গ্রামবাসীকে হত্যা করে। এর মধ্যে একজন মহিলা, দুই জন শিশু ছিল। অগ্নিসংযোগ করে দেড় শতাধিক ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে ছাই করে দেয় হানাদাররা।

পলিরচর মহল্লায় দুইজন গ্রামবাসীকে হত্যা করে ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। এ মহল্লায়ই দুজন মহিলার উপরও পাশবিক নির্যাতন চালায় হায়েনাদের দল। মছদ্দর আলী(পলিরচর) প্রতিবাদ করতে এগিয়ে আসলে তাকেও একজন পাকিস্থানী সেনা বন্দুক দিয়ে তাক করে। ঝাপটে ধরেন শক্তিশালী মছদ্দর আলী(পিতা:আব্বাস আলী)।প্রায় দশ মিনিট ধস্তাধস্তি’র পর ক্লান্ত হয়ে একে অপরকে ছেড়ে দিলে পাকিস্থানী সেনা মছদ্দর আলীকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে। এতে তিনি আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। গন্ডদেশে রাইফেলের গুলি লেগে বের হয়ে যায় অন্যদিকে।

পরবর্তীকালে পার্শ্ববর্তী বাড়ির মনাই মিয়া এগিয়ে আসেন মছদ্দর আলীকে উদ্বার করতে। তিনি চিকিৎসার জন্য মছদ্দর আলীকে মঙ্গলপুরবাজারে নিয়ে যান। সেখানে ডাক্তার মফিজ আলীর কাছে চিকিৎসা নিয়্র সুস্থ হন মছদ্দর আলী। পঞ্চাশঘর মহল্লায় একটি ঘরে হিন্দু-মুসলমান ১৫-২০ জন মহিলাকে জড়ো করে তাদের ওপর পাশবিক নির্যাতন চালায় হায়ানের দল। অপকর্ম শেষে চলে যাওয়া মুহুর্তে পাকিস্থানী সেনারা সেই ঘরের মধ্যে আগুন ধরিয়ে দেয়। ঘরে থাকা মহিলারা ঘ রের বেড়া দরজা ভেঙে বাচার জন্য যে যেদিকে সে দিকে ছুটে পলায়ন করেন।

আফছর নগর, শ্রীপুর ও পঞ্চাশঘর মহল্লার দুটি ঘর বাদে সব ঘর আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছিল পাকিস্তানী বর্বর বাহিনীরা। শুধু মুক্তিযুদ্ধাদের আশ্রয় দেওয়ার ‘অপরাধে’ শ্রীপুর গ্রামে পাকিস্থানী সেনারা এই নরকীয় হত্যাকান্ড হিংস্র পশুর মতো আচরণ ও বর্বরতা চালিয়েছিল।
১৯৭১ সালে, ১৪’নভেম্বর শ্রীপুর গ্রামে যারা পাকিস্থানী সেনাদের নির্মম হত্যাযজ্ঞের শিকার হয়েছিল তাদের তালিকা………।
পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর নৃশংসতার ক্ষত বিক্ষত পরিবেশ এখনো বহন করছে গ্রামবাসী। স্বাধীনতার দীর্ঘ ৪৬ বছর পরেও কেউ একবার তাদের খোঁজ নেয়নি।
দুঃখজনক হলেও সত্য, পরিতাপের বিষয় আমাদের নিজ পুরাতন বাড়ি শ্রীপুর পঞ্চাশ ঘর(হাজীবাড়িতে) মুক্তিযোদ্ধাদের ঘাটি ছিল অথচ আমাদের এই বাড়িতে কোন মুক্তিযুদ্ধাদের নাম মুক্তিযুদ্বার তালিকায় নেই।
আমাদের এই গ্রামের স্মৃতিগুলো ধরে রাখতে সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক ২০১৭ সালে বধ্যভুমি নির্মানের জন্য জায়গা নির্ধারণ করে ও বধ্যভূমির কাজ শুরু করেন।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই রকম আরো সংবাদ

  • এই সাইটের  লেখা কপি  করা থেকে বিরত থাকুন।
Design & Development By Hostitbd.Com
error: মামা কপি করা ভালো কাজ না !!