1. admin@amaderjamalganj.com : amaderjamalganj : amaderjamalganj com
লক্ষীপুরের ইতিহাস – আমাদের জামালগঞ্জ
মঙ্গলবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২১, ০৬:৩১ পূর্বাহ্ন
নোটিশ :
সাহিত্য বিকাশে মোরা প্রত্যয়দীপ্ত"আমাদের জামালগঞ্জ " হাওর সাহিত্যের আয়না - আপনিও লিখুনঃ আপনিও হয়ে যান আমাদের জামালগঞ্জ সাহিত্য পত্রিকার একজন নিয়মিত লেখক।যে কোনো ধরনের গল্প,কবিতা পাঠিয়ে দিন আমাদের কাছে আমরা আপনার লেখাটি আমাদের জামালগঞ্জ সাহিত্য পত্রিকায় আপনার নাম উল্লেখপূর্বক প্রকাশ করব। E-mail: amaderjamalganj@gmail.com

লক্ষীপুরের ইতিহাস

  • আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ৩২ বার পড়া হয়েছে

লক্ষীপুর একটি মুড়সী বর্দ্বিঞ্চু অঞ্চল বা গ্রাম। গ্রামের নামকরণ হয় ১৮০০ ইং সাল পরবর্তী। আয়তন প্রায় ২ বর্গ কিলোমিটার। চতুর্সীমা পূর্বে কামারগাও চাটনির বিল পশ্চিমে পাগনার হাওর উত্তরে কানাইখালি ও ইনাতনগর দক্ষিণ কাশীপুর ও নাজিমনগর। পরিবার মোট খানা ৪৯২ টি। মৌজা ৩ টি (যথাক্রমে লক্ষীপুর-কামারগাও-কাশিপুর)। জনসংখ্যা ২৭৪৫ জন। পুরুষ ১৪১২ জন ও নারী ১৩৩৩ জন। ভোটার সংখ্যা মোট ১৮৩৯। দক্ষিণ লক্ষীপুর ১০০০। পুরুষ ৪৮০ ও নারী ৫২০। উত্তর লক্ষীপুর ৮৩৯। পুরুষ ৪০২ ও নারী ৪৩৭ (১নং ওয়ার্ড ফেনারবাঁক ইউপি)।

বাড়ির সংখ্যা ৭ টি। যথাক্রমে ১। বড় বাড়ি ২। জুম্মা বাড়ি ৩। শেখ বাড়ি ৪। মোড়ল বাড়ি ৫। পুরান বাড়ি ৬। উত্তর বাড়ি ৭। দক্ষিণ বাড়ি। পাড়ার সংখ্যা ৭ টি। যথাক্রমে ১। বড় পাড়া ২। নতুন পাড়া ৩। গাঙ পাড়া বা কানাই পাড়া ৪। বিল পাড়া ৫। ধলা পাড়া ৬। চাটনি পাড়া ৭। বাগ পাড়া। শিক্ষার হার ৯০ ভাগ। লক্ষীপুর সংলগ্ন হাওরের নাম পাগনার হাওর। নদীর নাম কানাইখালী।

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সমূহ ও অন্যান্য
লক্ষীপুর জামে মসজিদ (প্রতিষ্ঠাকাল ব্রিটিশ পিরিয়ড), দ্বিতল লক্ষীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম বন্যাত্রাণ শিবির (প্রতিষ্ঠাকাল ১৯৩৫ ইং), লক্ষীপুর বাজার (গোড়াপত্তন ১৯৬০ ইং), লক্ষীপুর টি.ডি. মাদ্রাসা (জামালগঞ্জ থানার ৩য় প্রতিষ্ঠিত মাধ্যমিক মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠাকাল ১৯৬২ ইং), স্টার ক্লাব সংসদ (প্রতিষ্ঠাকাল ১৯৬৬ ইং), সবুজ পল্লী ফুটবল টিম (গঠিত ১৯৭৩ ইং), ফেনারবাঁক ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র (প্রতিষ্ঠাকাল স্বাধীনতা উত্তর), লক্ষীপুর বাজার পোস্ট অফিস (প্রতিষ্ঠাকাল স্বাধীনতা উত্তর), লক্ষীপুর খেলার মাঠ (স্থাপিত ২০০৩ ইং পরবর্তী), ৩ টি মসজিদ, প্রস্তাবিত ইউনিয়ন ভূমি অফিস।

লক্ষীপুর জামে মসজিদ
ব্রিটিশ পিরিয়ডে প্রতিষ্ঠিত হয় লক্ষীপুর জামে মসজিদ। এটি জামালগঞ্জ থানার একটি প্রাচীন মসজিদ।

লক্ষীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
লক্ষীপুর গ্রামের সর্বজনান উসমান আলী তালুকদার, মাস্টার ওয়ায়েজ উদ্দিন তালুকদার, মনজুর আলী তালুকদার, ওয়াজিদ তালুকদার, শমসের মোড়ল, বাহুলাল তালুকদার, সিরাজ উদ্দিন তালুকদার ও প্রমুখ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অত্র গ্রামবাসীর সহযোগিতায় ১৯৩৫ ইং প্রতিষ্ঠিত হয় লক্ষীপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে গ্রামের বিদ্যোৎসাহী ব্যক্তিগণের সমর্থনে জনাব ওয়াজিদ তালুকদার এর মালিকানাধীন ভূমিতে প্রথম লক্ষীপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হয়। পরবর্তীতে অতিরিক্ত স্থানাভাব/স্থান সংকুলানের অভাবে বিদ্যালয়টি স্থানান্তরিত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। উক্ত সিদ্ধান্ত মোতাবেক জনাব উসমান আলী তালুকদার ও জনাব মাস্টার ওয়ায়েজ উদ্দিন তালুকদার গ্রাম তথা এলাকাবাসীর শিক্ষা প্রসারে লক্ষীপুর বড় বাড়িতে ভূমিদান করেন এবং দ্বিতীয় দফা বিদ্যালয়টির কার্যক্রম শুরু হয়। ১৯৬২ ইং পরবর্তী বিদ্যালয়টি সরকারি করন হয়।

লক্ষীপুর বাজার
ফেনারবাঁক ইউনিয়নের অন্তর্গত লক্ষীপুর একটি মুড়সী বর্দ্বিঞ্চু গ্রাম। ছ’টি বাড়ি ও সাতটি পাড়ার সমন্বয়ে এ গ্রামটি গঠিত। সুদূর ব্রিটিশ আমল হতেই এ গ্রামে দু’টি করে স্বর্ণকারের দোকান ছিলো। বর্ষাকালে তারা গ্রামের বিয়ের অলংকারাদি ও পুরাতন অলংকারাদি কাজ করে মুনাফা তুলে নিতো যথেষ্ট। পাক আমলে নিত্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন প্রকার মালামালের ছিল বিরাট দু’টি ষ্টোর। মরহুম আবদুল মন্নান তালুকদার ও মরহুম রুস্তম আলী তালুকদারের যৌথ পরিচালনায় মন্নান তালুকদারের বিরাট বাংলা ঘরের অর্ধেক জুরে ছিল ‘বদুর এন্ড বেদনা ষ্টোর’। সামরোজ তালুকদারের বাংলা ঘরে ছিল ‘আল জালাল টেইলারিং সোপ’। এছাড়া প্রতি পাড়াই ছিল খুচড়ো দোকান।
১৯৬০ ইং সনে টেইলারিং প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত উদ্যোগী তরুণ জালাল উদ্দিন নওমৌজার বিভিন্ন গ্রামের পশারো দোকানী গণের সঙ্গে ব্যক্তিগত আলোচনার প্রেক্ষিতে কামারগাও এর উত্তর পাশে কানাইখালী নদীর পশ্চিম-দক্ষিণ তীরের বিরাট করচবৃক্ষ মূলে বসিয়ে দেন এক রমরমা হাট। কানাইখালী নদী তীরবর্তী সমুদয় স্থানটিই ছিল বৈশাখী ধান কাটার দক্ষিণা বেপারীগণের নৌকা রাখার জংশন এবং বেপারীগণের ধান মারাই এবং শুকনো খলা। স্বভাবতই ঐ সিজনে স্থানটি সরগরম থাকতো, বেচা কেনা চলতো যথেষ্ট। ধান কাটা সাঙ্গ হলে শুরু হতো বেপারীগণের বিদায়ের পালা। রিমঝিম বর্ষার শুরুতেই দোকানীগণ নিজ নিজ দোকান গুটিয়ে নিতো বাড়িতে। জালাল উদ্দিন স্বপরিবারে গ্রাম ছেড়ে চলে গেলে কামারগাও এর হৈমন্তিক বাজার আর বসেনি।
অতঃপর দীর্ঘ আলোচনান্তে ১৯৯০ ইং সনে কামারগাও ও লক্ষীপুর গ্রামের মধ্যবর্তী কানাইখালী নদীর দক্ষিণ তীরে গ্রামের যৌথ মালিকানাধীন ৫ একর ভূমির উপর প্রতিষ্ঠা করা হয় লক্ষীপুর বাজার। বাজারের জন্য রেজিষ্ট্রিকৃত ভূমিতে হৈমন্তিক বাজার চলে প্রথম দু’বছর। ১৯৯৩ ইং সনে সরকারী ও বেসরকারী পর্যায়ে প্রভূত মাটি কাটার পর স্থানটি আবারো হলে বাজারটি সাংবাৎসরিক বাজারে পরিণত হয়। এ বাজারে প্রায় ত্রিশটি স্থায়ী টিনের ঘর রয়েছে। এছাড়া গলি পথে বসে ভাসানিয়া দোকানীগণ। প্রতি বুধবার ও শনিবার এর হাটবার।
বাজার সংলগ্ন গ্রামের ভীটিতে রয়ে ফেনারবাঁক ইউনিয়ের প্রাচীনতম মসজিদ, লক্ষীপুর টি.ডি. মাদ্রাসা, প্রাচীনতম সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। এ গ্রামের পশ্চিম পাড়ায় ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র ও গ্রামের দক্ষিণ প্রান্তে রয়েছে দ্বিতল প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম বন্যাত্রাণ শিবির।
(জামালগঞ্জের ইতিহাস)।

লক্ষীপুর টি.ডি. মাদ্রাসা
১৯৬২ সালে লক্ষীপুরে মাধ্যমিক মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন জনাব আব্দুল আজিজ খাঁন ও জনাব মাস্টার ওয়ায়েজ উদ্দিন তালুকদার। মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপটে সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় সভাপতিত্ব করেন জনাব মাস্টার ওয়ায়েজ উদ্দিন তালুকদার। উক্ত সভার ভিত্তিতে ও জুম্মা বাড়ির জনাব আব্দুর রহিম তালুকদার এর আংশিক দানে জনাব আব্দুল আজিজ খাঁন ও জনাব মাস্টার ওয়ায়েজ উদ্দিন তালুকদার অত্র এলাকার বিদ্যোৎসাহী ব্যক্তিগণের সহযোগিতায় ১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় লক্ষীপুর তাওয়াক্কুলিয়া দাখিল মাদ্রাসা। মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই এদারা পদ্ধতিতে পরিচালিত হয়ে আসছিলো। অতঃপর জনাব গোলাম মর্ত্তুজা এ মাদ্রাসায় সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করার পর মহকুমা শিক্ষা অফিসার জনাব এন. আই মিয়াকে এনে মাদ্রাসাটি পরিদর্শন করার ব্যবস্থা করেন। উক্ত পরিদর্শনের রিপোর্টের ভিত্তিতে ১৯৭৮ সালে মাদ্রাসাটি সরকারের স্বীকৃতি প্রাপ্ত হয়। বর্তমানে এ মাদ্রাসার মোট জমির পরিমান চার হাল। ১ জানুয়ারী ১৯৮০ সালে মাদ্রাসাটির অনুমোদন প্রাপ্তি ঘটে। সরকারের অনুমোদন প্রাপ্তির পূর্ব পর্যন্ত এ মাদ্রাসার সুপারের দায়িত্ব পালন করেন জনাব আবদুল আজিজ খাঁন। পরবর্তীতে মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেনটের দায়িত্ব পালন করেন জনাব মাওলানা আশরাফ আলী। ফ্যাসিলিটিজ ডিপার্টমেন্টের তৈরি বিল্ডিং ছাড়াও তিনটি বৃহদাকার টিনসেড ঘরে এ মাদ্রাসার শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। এটি জামালগঞ্জ উপজেলার ৩য় প্রতিষ্ঠিত মাধ্যমিক মাদ্রাসা। ৬ আগস্ট ২০১৯ সাল উপজেলা শিক্ষা অফিস জামালগঞ্জ এ অনুষ্টিতব্য লক্ষীপুর তাওয়াক্কুলিয়া দাখিল মাদ্রাসা ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনে ফেনারবাঁক ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জনাব আজাদ হোসেন বাবলু সভাপতি নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

স্টার ক্লাব সংসদ লক্ষীপুর
১৯৬৬ সালে জনাব গোলাম মর্ত্তুজা সাহেব প্রতিষ্ঠা করেন স্টার ক্লাব। স্টার ক্লাব সংসদ এর উদ্যোগে লক্ষীপুর গ্রামে অনুষ্ঠিত ও আলোচিত হয় সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশেষ অংশগুলো।
নাট্য সংস্কৃতির স্বকীয়তায় লক্ষীপুর এর উজ্জ্বল ভূমিকা রয়েছে। লক্ষীপুরের সর্বজনাব মাস্টার মফিজুর রহমান, জহির উদ্দিন, গোলাম আমিন ওরফে শাহাব উদ্দিন, বদিউজ্জামান, আবুল কালাম, আব্দুস ছত্তার প্রমুখের উদ্যোগে ও অভিনয়ে পাকিস্তান আমলে ও বাংলাদেশ আমলে পেন্ডেল দিয়ে ‘বড় বাড়ি’র উঠানে টিকেট সিস্টেমে ডায়নামার আলোয় উদ্ভাসিত আসরে যাত্রানুষ্ঠান হয়েছে বহুবার, যা নিরালা মফঃস্বল গ্রামের জন্য সেদিন ছিলো অকল্পনীয়।
লক্ষীপুর গ্রামের বড় বাড়ির জনাব গোলাম মর্ত্তুজা সাহেবের মোহনগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ার সুবাদে ও আত্মীয়তার সূত্রে নাট্যমোদী জনাব আবদুল কুদ্দুছ আজাদ, মহব্বত আলী (যাঁরা পরবর্তীতে উপজেলা ও পৌরসভার চেয়ারম্যান হয়েছিলেন), পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক জনাব আব্দুর রাজ্জাক সাহেব প্রমুখ সহ আরও কিছু নাট্যমোদী পরপর ২ বছর বর্ষাকালে বড় বাড়ির উঠানে নাটক করে গিয়েছেন।
স্বাধীনতা পূর্ব ২/৩ বছর লক্ষীপুর গ্রামের উল্লেখিত নাট্যমোদী ব্যক্তিগণের দ্বারা জনাব গোলাম মর্ত্তুজা সাহেবের পরিচালনায় নাট্যস্থ হয় ১। টিপু সুলতান ২। ইশা খাঁ ৩। নবাব সিরাজ উদ-দৌলা।
স্বাধীনতা সংগ্রাম শুরুর কয়েকমাস পূর্বে লক্ষীপুর গ্রামের ছেলেদের দিয়ে নাট্যস্থ করান ‘বিদ্রোহী বাঙালী’ নাটিকাটি।
এছাড়াও লক্ষীপুর গ্রামে উল্লেখিত ব্যক্তিগণ ও পাশ্ববর্তী গ্রামের নাট্যমোদী ব্যক্তিগণকে নিয়ে বেশ কয়েকটি যাত্রানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। উল্লেখযোগ্য ছিলেন জনাব গোপেশ চন্দ্র তালুকদার, জনাব নরেন্দ্র তালুকদার প্রমুখ।

সবুজ পল্লী ফুটবল টিম
স্বাধীনতা উত্তর অত্র এলাকা তথা জামালগঞ্জ থানার বিশেষ কয়েকটি ফুটবল টিমের মধ্যে এটিও একটি। আমাদের অত্র এলাকায় ফুটবল খেলার বেশ চর্চা ছিলো। একাধারে টিমের খেলোয়ারদের নামঃ
সর্বজনাব ১। জহির উদ্দিন ওরফে ছাতু রহমান (অধিনায়ক লক্ষীপুর) ২। সনজব আলী তালুকদার (লক্ষীপুর) ৩। তোফায়েল আহমদ তালুকদার (লক্ষীপুর) ৪। নবী হোসেন লক্ষীপুর (লক্ষীপুর) ৫। বদিউজ্জামান (লক্ষীপুর) ৬। আকরম আলী (লক্ষীপুর) ৭। নূর আহমদ (লক্ষীপুর) ৮। আবুল কালাম (লক্ষীপুর) ৯। রমজান আলী (রফিনগর) ১০। নাসির (রফিনগর) ১১। গুলে নূর (দিগজান) ১২। আসান উল্লাহ (সেলিমগঞ্জ) ১৩। প্রফুল্ল (কামারগাও) ১৪। কালী চরন (গঙ্গাধরপুর) ১৫। প্রমোদ বাবু (গঙ্গাধরপুর) প্রমুখ।
সবুজ পল্লী ফুটবল টিম একাধারে জামালগঞ্জ থানায় বেশ কয়েকটি প্রতিযোগিতামূলক খেলায় বিজয় অর্জন করেছিলো।

ফেনারবাঁক ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র
স্বাধীনতা উত্তর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রত্যেক ইউনিয়নে ১টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেয়। সেসময় ফেনারবাঁক ইউনিয়নে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ৪টি স্থান প্রাথমিকভাবে নির্ধারণ করা হয়। যথাক্রমে : ১। লক্ষীপুর ২। ফেনারবাঁক ৩। খুজারগাও ৪। সেলিমগঞ্জ। প্রাথমিক স্থান নির্ধারণে খুজারগাও ও সেলিমগঞ্জ স্থানটি বাতিল করা হয়। পরবর্তীতে লক্ষীপুর ও ফেনারবাঁক এর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুরু হয়। লক্ষীপুর গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে দায়িত্বে ছিলেন জনাব গোলাম রব্বানী ও জনাব তোফায়েল আহমেদ তালুকদার। এবং ফেনারবাঁক গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে দায়িত্বে ছিলেন জনাব মফিজুর রহমান চৌধুরী ও জনাব মজিবুর রহমান চৌধুরী। পরবর্তীতে স্থান নির্ধারক কমিটির ঘোষণা লক্ষীপুরের পক্ষে যায়। প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্য দিয়ে লক্ষীপুর জয়ী হয় এবং ফেনারবাঁক ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র লক্ষীপুরে প্রতিষ্ঠিত হয়।

লক্ষীপুর বাজার পোস্ট অফিস
১৯৬২ সালে লক্ষীপুর গ্রামের জনাব আবদুল আজিজ খাঁন লক্ষীপুর পোস্ট অফিস স্থাপনের উদ্যোগ নেন। অনেক চেষ্টার পরেও তিনি সফল হতে পারেন নি। পরবর্তীতে স্বাধীনতা উত্তর লক্ষীপুর গ্রামবাসী পুনরায় পোস্ট অফিস স্থাপনের উদ্যোগ নেয়। সেসময় গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে দায়িত্বে থাকেন জনাব গোলাম সারওয়ার ও জনাব আনোয়ার হোসেন তালুকদার আমরুজ। সেসময় ফেনারবাঁক গ্রামবাসী লক্ষীপুরে পোস্ট অফিস স্থাপনের বিরোধিতা করে। পরবর্তীতে প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্য দিয়ে লক্ষীপুর গ্রামে লক্ষীপুর বাজার পোস্ট অফিস স্থাপিত হয়।

লক্ষীপুর উত্তর খেলার মাঠ
২০০৩ সাল পরবর্তী লক্ষীপুর গ্রামে ফেনারবাঁক ইউনিয়ন পরিষদ এর সাবেক চেয়ারম্যান জনাব আজাদ হোসেন বাবলু প্রতিষ্ঠা করেন লক্ষীপুর উত্তর খেলার মাঠ। এটি জামালগঞ্জ উপজেলার সর্বোচ্চ বৃহদাকার মাঠ।
লেখক- গোলাম আল নাহিয়ান ধ্রুব
গ্রাম-লক্ষীপুর,ইউপি-ফেনারবাঁক,উপজেলা-জামালগঞ্জ।

বিঃদ্রঃ লেখায় ভুল হলে সম্পাদক দায়ী নয় লেখক এর ব্যায়বার বহন করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই রকম আরো সংবাদ

  • এই সাইটের  লেখা কপি  করা থেকে বিরত থাকুন।
Design & Development By Hostitbd.Com
error: মামা কপি করা ভালো কাজ না !!