1. admin@amaderjamalganj.com : amaderjamalganj : amaderjamalganj com
ফেলে আসা || স্মৃতি এস ডি সুব্রত – আমাদের জামালগঞ্জ
বৃহস্পতিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২০, ০৪:১০ পূর্বাহ্ন
নোটিশ :
সাহিত্য বিকাশে মোরা প্রত্যয়দীপ্ত"আমাদের জামালগঞ্জ " হাওর সাহিত্যের আয়না - আপনিও লিখুনঃ আপনিও হয়ে যান আমাদের জামালগঞ্জ সাহিত্য পত্রিকার একজন নিয়মিত লেখক।যে কোনো ধরনের গল্প,কবিতা পাঠিয়ে দিন আমাদের কাছে আমরা আপনার লেখাটি আমাদের জামালগঞ্জ সাহিত্য পত্রিকায় আপনার নাম উল্লেখপূর্বক প্রকাশ করব। E-mail: amaderjamalganj@gmail.com

ফেলে আসা || স্মৃতি এস ডি সুব্রত

  • আপডেট সময় : রবিবার, ২২ নভেম্বর, ২০২০
  • ২৬ বার পড়া হয়েছে

ফেলে আসা স্মৃতি
এস ডি সুব্রত

বহুদিন পর আজ এক সময়ের নিজ জেলা শহর হবিগঞ্জ দাঁড়িয়ে।প্রায় পনের বছর পর এ শহরে পা রাখলাম আমার অফিস বস (বশির আহমেদ স্যার) এর বিয়ে উপলক্ষে অনামিকা কমিউনিটি সেন্টার এ । আমরা জেলা সমবায় পরিবার, সুনামগঞ্জ এর অনেকেই আজ এ শহরে।বিয়ে খাওয়া দাওয়া সব ছাপিয়ে আমার হৃদয় যমুনায় স্মৃতির ঢেউ খেলে যায় আচমকা অতীতের স্মৃতি। বহুদিন পর মনটা বড়ই স্মৃতি কাতর হয়ে উঠল হবিগঞ্জ সদর উপজেলার আকতপুর গ্রামের সেই ঘর,সে ভিটার জন্য ,যে ঘরে যে ভিটায় অপরুপ সুন্দর এই মায়াময় পৃথিবীর প্রথম আলো দেখেছিলাম। যেখানে প্রথম চিৎকার করেছিলাম, নিজের আগমন বার্তা জানান দিয়েছিলাম। চোখের সামনে ভেসে উঠছে প্রথম হামাগুড়ি দেওয়া সেই উঠান ,উঠানের পাশে বিশাল আমগাছ, ঘরের পিছনে বড় তালগাছ যেখানে ছিল অনেক বাবুই পাখির বাসা। মনে পড়ছে বাড়ির পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ছোট নদী সুতাং এর কথা যে নদী তে প্রথম গোসল করেছিলাম বাবার হাত ধরে। যে নদী তে প্রথম সাঁতার শিখেছিলাম। অন্তরের গহীন মাঝে নাড়া দিচ্ছে আসেরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হবিগঞ্জ সদর।যে বিদ্যালয়ে আমার প্রথম আনুষ্ঠানিক শিক্ষার হাতেখড়ি।ঐ স্কুলে তৃতীয় শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা করেছিলাম। তখনকার কয়েক জন সহপাঠী র নাম মনে আছে। হান্নান,করিম ,আওলাদ ও জবা।আর কারো নাম মনে করতে পারছি না।ঐ স্কুলের দুইজন শিক্ষকের কথা বেশ স্পষ্ট মনে পড়ছে।রুক্ষিনীমোহন আচার্য, প্রধান শিক্ষক এবং কেতকী মোহন দেব , সহকারী শিক্ষক। দুজনেই খুব স্নেহ করতেন আমাকে।
ঐ স্কুলের পাশে একই ক্যাম্পাসে আসেরা উচ্চ বিদ্যালয়ে আমার বাবা চাকুরী করতেন। সেই সুবাদে একটু বেশীই স্নেহ পেতাম স্যারদের কাছ থেকে। আমার বেশ মনে আছে প্রধান শিক্ষক রুক্ষিনী মোহন আচার্য স্যার প্রায়ই আমাকে চকলেট আইসক্রিম খাওয়াতেন।সেই সব স্মৃতিগুলো বেশ নাড়া দেয় বুকের দেয়ালে। আবার অন্যদিকে এক মনোবেদনা বুকের মাঝে পাথর হয়ে সেঁটে যায় যখন কিছু অপ্রত্যাশিত ঘটনার সূত্র ধরে নিজের জন্মভিটা ছেড়ে যাওয়ার বেদনা বিদূর দৃশ্য চোখে র সামনে ভেসে ওঠে। নিজের জন্মভিটা ছেড়ে যাওয়ার সেই দিনটা প্রায়শই চোখের সামনে ভেসে ওঠে, নোনা জলে সিক্ত করে আঁখি যুগল।যা হোক সে দিকে এখন যাব না। আমার প্রথম প্রাইমারি স্কুলের সহপাঠীদের মধ্যে একজন ছাড়া আর কারো সাথে আজ পর্যন্ত দেখা হয়নি কোনভাবেই।এখন চোখের সামনে দিয়ে চলে গেলেও হয়তো চিনতেও পারব না। হায়রে নিয়তি।জীবনের প্রথম খেলার সাথী দের এভাবে হারিয়ে ফেলব কখনো ভাবিনি। মাঝে একবার তাও বছর বিশেক আগে আওলাদের সাথে দেখা হয়েছিল যার পরিবারের সাথে আমাদের পরিবারের একটা গভীর পারিবারিক বন্ধন ছিল।
বাবার হাত ধরে লুকড়া রিচি হয়ে হবিগঞ্জ শহরে যেতাম। তখন যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল ছিল না। কোর্ট স্টেশন,রাজনগর , চৌধুরী বাজার ,কালি বাড়ি জায়গা গুলোর কথা বেশ মনে পড়ে। তখনকার হবিগঞ্জ শহরের বড় এবং সুপরিচিত কাপড়ের দোকান নয় হাজারির কাপড়ের দোকানের কথা মনে আছে যেখানে থেকে আমাদের পারিবারিক প্রয়োজনীয় কাপড় কেনা হতো। পুঁথি ঘর লাইব্রেরী,হ্যানিম্যান হোমিও হল চোখে ভাসে আজো।এই মুহূর্তে খুব ইচ্ছে করছে নিজের জন্মভিটা টা একবার দেখে আসি। হবিগঞ্জ শহর থেকে বেশি দূরে নয় । হবিগঞ্জ লাখাই সড়কের পাশে বেকিটাকা বাজার এর নিকটবর্তী আকতপুর গ্রাম। সেই গ্রামের সেলিম ,জাহির ,আবু বক্কর নামগুলো মনে পড়ছে। জাহিরের আব্বার ( ধলাই চাচা)প্রায়শই টেটায় গেঁথে বিষাক্ত সাপ মারার কথা বেশ মনে পড়ে।ভয়ে গা ছমছম করত দেখে। অবশ্য আমাদের কেউ ই এখন সেখানে থাকেন না। তবু সেখানে যেতে খুব ইচ্ছে করে।এর আগেও অনেকবার যেতে চেয়েছিলাম, কিন্তু যাওয়া হয়নি। সুতাং পাড়ের সেই গ্রাম থেকে শাহজী বাজার হেঁটে গিয়ে ট্রেনে নোয়াপাড়া এবং সেখান থেকে বেবি ট্যাক্সি যে মাধবপুরে আমার কাকিমার বাবার বাড়ি তে যাওয়ার কথা খুব মনে পড়ে। জীবনে প্রথম সিনেমা দেখেছিলাম মাধবপুর আনন্দ সিনেমা হলে।ছবির নাম ছিল বাগদাদের চোর। নায়ক নায়িকা জাবেদ ববিতা।আজ স্মৃতি গুলো খুব মনে পড়ছে।
আকতপুর গ্রামের পাশ্ববর্তী সানাবহি গ্রামে ঘোড়ার দৌড় দেখতে যেতাম প্রতিবছর।শিহরন জাগানো সেই দৃশ্য চোখে ভাসে আজো। তাছাড়া পাশ্ববর্তী ডুমরা গ্রামে দোল পূর্ণিমার সময় গোপাল কাকাদের বাড়ি র পাশ্ববর্তী বিশাল বটগাছের নিচে কলাপাতায় খিচুড়ি প্রসাদ খাওয়ার মজা কোনদিন ভুলতে পারবনা।
স্মৃতি গুলো মনে করে একদিকে সুখ পাই আবার খারাপও লাগে।যে মাটির গন্ধ সুধায় বেড়ে উঠেছিলাম সে মাটির সাথে এমন বিচ্ছিন্নতা কখনো অশ্রু ঝড়ায়।
এক সময় সুতাং ছেড়ে চামটি কালনীর তীরে নতুন আবাস, নতুন বন্ধুত্ব ,পাড়া প্রতিবেশী আত্মীয় স্বজন। স্কুল, সহপাঠী সবার সাথে হেসে খেলে বেড়ানো। শ্যামসুন্দর উচ্চ বিদ্যালয়, সরসপুর ,শাল্লা, সুনামগঞ্জ এ অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা। আবার নতুন জায়গা, নতুন পরিবেশ,কাছের আত্মীয়। রুপালি ইলিশের ঘ্রান আর পদ্মা মেঘনা ডাকাতিয়ার মোহনার মায়া ,অপরুপ জলহাওয়ায় নতুন বন্ধু স্বজন শুভাকাঙ্ক্ষী। দীর্ঘ সময় যাপন। জীবনের স্বর্ণালী সময়, পড়াশোনা, বন্ধুত্ব আর সাহিত্যের সোনালী দিন,লেখালেখির হাতেখড়ি। ভালো ই কাটছিল দিন। ইচ্ছেও ছিল আজীবন সঙ্গী হবে মোহনার।হলনা। আবারও বিদায়ের সুর, বুকভরা নিঃশ্বাস। একদিন মোহনার মায়া ছেড়ে দাড়াইন অবশেষে সুরমার পাড়ে জলজোছনার শহরে।এর পর কোথায় সময়ই হয়তো বলে দেবে। আমি শুধু জানি চাওয়া পাওয়ার মেলবন্ধন হয়নি কখনো আমার। হায়রে নিয়তি! এভাবেই একদিন মিশে যাব অসীম অনন্তে চিরতরে সাধের পৃথিবী ছেড়ে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই রকম আরো সংবাদ

  • এই সাইটের  লেখা কপি  করা থেকে বিরত থাকুন।
Design & Development By Hostitbd.Com
error: মামা কপি করা ভালো কাজ না !!