1. admin@amaderjamalganj.com : amaderjamalganj : amaderjamalganj com
ভালোবাসার সমাপ্তি / তানজিলা তানজিম সোমা – আমাদের জামালগঞ্জ
সোমবার, ১৯ এপ্রিল ২০২১, ১০:০৪ অপরাহ্ন
নোটিশ :
সাহিত্য বিকাশে মোরা প্রত্যয়দীপ্ত"আমাদের জামালগঞ্জ " হাওর সাহিত্যের আয়না - আপনিও লিখুনঃ আপনিও হয়ে যান আমাদের জামালগঞ্জ সাহিত্য পত্রিকার একজন নিয়মিত লেখক।যে কোনো ধরনের গল্প,কবিতা পাঠিয়ে দিন আমাদের কাছে আমরা আপনার লেখাটি আমাদের জামালগঞ্জ সাহিত্য পত্রিকায় আপনার নাম উল্লেখপূর্বক প্রকাশ করব। E-mail: amaderjamalganj@gmail.com

ভালোবাসার সমাপ্তি / তানজিলা তানজিম সোমা

  • আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ২৫ মার্চ, ২০২১
  • ১৫৪ বার পড়া হয়েছে

” ভালোবাসার সমাপ্তি”
১৬ সালের প্রথম দিক থেকে শুরু তাদের দেখা।আর দেখাটা হয় হঠাৎ করেই কলেজে।এর আগে কখনো তাদের দেখা বা কথা কোনো কিছুই হয়নি।
(সবকিছুর আগেতো পরিচয় দিতে হয়,,,ছেলের নাম অভ্র।আর মেয়ের নাম প্রিয়ন্তিকা,,,এটা কাল্পনিক নাম)
১৬ সাল থেকেই দেখা হয় বাট কথা হয়না।কিন্তু প্রথম দেখাতেই কিন্তু অভ্র,প্রিয়ন্তিকাকে প্রপোজ করে ফেলে,,তাও প্রিয়ন্তিকার বাড়ির কাছাকাছি এসে।
এই প্রথম প্রয়ন্তিকাকে সরাসরি কেই প্রথম দেখায়ই প্রপোজ করলো।
প্রিয়ন্তিকা প্রচন্ড ভয় পায়।এই ভয়ে ২-৩ দিন কলেজে যায়নি।২-৩ দিন পর কলেজে গিয়েও তার রেহাই নেই।অভ্র আবার তার পিছু নিলো,,একেবারে বাড়ির রাস্তা পর্যন্ত বাইক নিয়া চলে আসলো।
তারপর থেকে প্রিয়ন্তিকা কলেজে যাওয়ার সময় অভ্রকে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখতো।এভাবে অনেক দিন যায়।কিন্তু অভ্রকে দেখলেই প্রিয়ন্তিকার কেমন জানি রাগ হতো।এভাবে প্রত্যেকদিন কলেজে তাদের দেখা হতো কোনো কথা হতোনা।
কিন্তু বেশির ভাগ সময় অভ্র প্রিয়ন্তিকার পিছনে পিছনে হেটে যেতো।
হঠাৎ একদিন অভ্র পিয়ন্তিকাকে রাস্তায় ডাকডাকি শুরু করে,,তার প্রপোজের কোনো উত্তর পায়নি।
এরপর প্রিয়ন্তিকা অনেকদিন কলেজে যায়নি,,,তারপর একদিন কলেজো গেলো,,।
আর কিভাবে অভ্র খবর পেয়ে অনেক রাস্তা প্রিয়ন্তিকার পিছন পিছন গেলো তাও সিগারেট টানতে টানতে।
আর এই অসহ্য রকম পরিস্তিতিতে প্রিয়ন্তিকা মনেমনে বলে উঠলো-এর মতো শয়তানের মরন নাই,,মরলেতো আমি শান্তি পাইতাম।”
অইদিন বিকালেই অভ্র বাইক এক্সিডেন্ট করলো,,পরের দিন কলেজে গিয়ে প্রিয়ন্তিকা যখন শুনলো অভ্র বাইক এক্সিডেন্ট করছে,মরবে কি বাঁচবে তার নিশ্চয়তা নাই।তখন প্রিয়ন্তিকা খুব খুশি হয়।
তারপর অভ্র হসপিটালে এডমিট,,প্রিয়ন্তিকা কলেজে যায়।প্রিয়ন্তিকার কেমন জানি অস্থির অস্থির লাগে।এভাবে ১৫-২০ দিন যায়।প্রিয়ন্তিকার পরীক্ষা চলে আসে,ওর পরীক্ষার মধ্যে হঠাৎ করে কলেজের সিড়িতে অভ্রের আগমন।মাথায় পুড়াই ব্যান্ডেজ,,,ব্যান্ডেজ ছাড়া কিছুই প্রিয়ন্তিকার চোখে পড়লোনা।এমনিতেই প্রিয়ন্তিকা নিজেকে অপরাধী মনে করতো।মনে করতো তার অভিশাপে এইসব হইছে।আস্তে-আস্তে অভ্রের প্রতি প্রিয়ন্তিকার দুর্বলতা চলে আসে।কিন্তু কি করার,মেয়ে হয়েতো তা বলা সম্ভব না।
প্রিয়ন্তিকা তার এক।বোনের আশ্রয় নেয়,সবকিছু শেয়ার।করে।প্রিয়ন্তিকার বোন।ফোন নাম্বার যোগাড় করে।কয়েকদিন মেসেজে অভ্রের সাথে মেসেজে যোগাযোগ করে এবং প্রিয়ন্তিকার সাথে যোগাযোগ করিয়ে দেয়।
শুরু তাদের প্রেম ২০১৭ সালের এপ্রিলের দিকে।ভালোই কাটছিলো সময়।মেসেজে মাঝেমাঝে কথা হতো।কিন্তু অভ্র ৫ মিনিট কথা বলার জন্য অনেক অনুরোধ করতো।সময়-সুযোগ করে প্রিয়ন্তিকা কথা বলতো।ভালোই চলছিলো সবকিছু।
কিন্তু হঠাৎ করে জানলো অভ্রের প্রেমিকার অভাব নাই,এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের বাজে নেশা আছে।এসব শুনে প্রিয়ন্তিকা সহ্য করতে না পেরে মোবাইল ফোন সহ ভেংগে ফেলে।
তারপর ৩০-৪৫ দিন যায়,,অভ্র আবার সত্য মিথ্যা বুঝিয়ে সবকিছু ঠিক করে।তারপর কিছুদিন যাওয়ার পর আবার প্রিয়ন্তিকা জানতে পারে তার রিয়েল প্রেমিকা আছে,,তার এই প্রেমিকা এবং প্রমিকার বোনের কাছে অভ্র বলে বেড়াতো প্রিয়ন্তিকা পাগল,প্রিয়ন্তিকার সাথে টাইম পাস করে।
এসব নিয়া অনেক ঝামেলা হয়,,এক পর্যায়ে প্রিয়ন্তিকাকে থাপ্পরও মারে অভ্র তার প্রেমিকার কথায়।
তারপর অভ্রের রিয়েল প্রেমিকার বিয়ে হয়ে যায়।অভ্রের মামাতো ভাইয়ের অনুরোধে আবার অভ্র আর প্রিয়ন্তিকার যোগাযোগ হয়।
কিন্তু এরপর থেকে প্রিয়ন্তিকা অভ্রকে বিশ্বাস করতে পারেনি কারণ অভ্রের রিলেশনের অভাব ছিলোনা।এই কারণে অভ্রের ফোন একবার ওয়েটিং থাকলেই প্রিয়ন্তিকা ওভার রিয়েক্ট করতো,বাজে ভাষায় গালাগালি করতো।তাও অভ্র সহ্য করতো।
প্রিয়ন্তিকা রাত্রে বেশিরভাগ সময় তার প্রেমিক অভ্রর ফোন ওয়েটিং পাইতো,এ নিয়া ঝামেলা হইতো।
সবকিছুর পরও প্রিয়ন্তিকা অভ্রর হাত ছাড়েনি,,সারাজীবন তার প্রথম ভালোবাসার হাত ধরে থাকতে চাইতো।
কিন্তু হঠাৎ করে একদিন অভ্র জানিয়ে দিলো-“আমি খারাপ,সারা উপজেলায় আমার মতো খারাপ নাই,আমার সাথে তুমি থাকলে ভালো থাকতে পারবা না।তুমি আমার চেয়ে অনেক ভালো ছেলে পাইবা,ভালো থেকো আর কোনোদিন আমায় বিরক্ত কইরোনা,কল মেসেজ দিওনা।”এসব অভ্রের কথা।কিন্তু এসব কথা অভ্রর মামাতো ভাইয়ের কাছ থেকেও অনেক শুনেছে প্রিয়ন্তিকা।বিশ্বাস করেনি,কারণ অভ্র প্রিয়ন্তিকার প্রথম প্রেম প্রথম ভালোবাসা।
অভ্রর সব কথা শুনে
প্রিয়ন্তিকা কিছুই বলতে পারলোনা,,শুধু কান্না করলো,,আর মনেমনে ভাবলো চার থেকে সাড়ে ৪।বছরের সম্পর্ক এতো সহজে শেষ করে দিলো।

এরপরে ২-৩ দিন প্রিয়ন্তিকা বেহায়ার মতো কল মেসেজ দিলো কিন্তু।কোনো সাড়া পায়নি।প্রত্যেকািন ২-৩ টা ঘুমের ঔষধ খেয়ে ঘুমাইতো সবকিছু ভুলতে।
তারপর মা-বাবার পছন্দের ছেলেকে বিয়ে করে সুখেই সংসার করছে।
প্রিয়ন্তিকার লাইফে এখন অভ্র নামের কোনো অস্তিত্ব নেই,,সংসারের চাপে সব ভুলে গেছে।
অভ্রও হয়তো ভালোই আছে,,যার জন্য প্রিয়ন্তিকাকে ছেড়ে গেছে তাকে নিয়েই।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই রকম আরো সংবাদ

  • এই সাইটের  লেখা কপি  করা থেকে বিরত থাকুন।
Design & Development By Hostitbd.Com
error: মামা কপি করা ভালো কাজ না !!